Saturday, April 28, 2018

এক টাকার যাদু ...


মানুষ আর পশুর মধ্যে পার্থক্য কোথায় জানেন? মানবতাবোধ- এই একটি বৈশিষ্ট্য মানুষকে সৃষ্টির সকল প্রানী থেকে আলাদা করে দিয়েছে, সৃষ্টির সেরা সৃষ্টি বানিয়েছে। কিন্তু মানুষের মনের উৎকর্ষতার সাথে সাথে তার মানবতাবোধ ও নৈতিকতার চেতনায় আজ বিবর্তন ঘটেছে। যান্ত্রিক এই পৃথিবীতে আমরা মানুষগুলো আজ ক্রমশই নির্লিপ্ত হয়ে  পড়েছি। নিজেদের ছকে বাঁধা জীবনটায় এমনই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গিয়েছি যে পাশের অসহায় মানুষটির দিকে ভ্রুক্ষেপ করারও ফুরসত নেই আমাদের। তবে কি মানবব্জীবন বৃথা? আসা যাওয়ার মিছিলের দৈর্ঘ্য বাড়াতেই কি কেবল পৃথিবীতে আসা? হয়তো না। কেউ কেউ হয়তো পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে লোকচক্ষুর আড়ালে বসে মানবতার গল্প রচনা করে যাচ্ছেন। কেউবা হয়তো ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল হয়ে অসহায় মানুষের পাশে আলোকের ঝর্নাধারায় তাদের পৃথিবী ধুইয়ে দিচ্ছেন। কেউ কেউ হয়তো স্বপ্ন দেখছেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে একটি দারিদ্র্যমুক্ত, বেকারত্বমুক্ত সমাজ গঠনের । এমনই এক অভিপ্রায়ে কাজ করে যাচ্ছে One Taka Fund

One Taka Fund এর উদ্দেশ্য হচ্ছে সৎ ও দরিদ্র মানুষদের বিনা সুদে স্বল্প ব্যবসায়িক পুঁজি দিয়ে স্বাবলম্বী করতে সাহায্য করা। আর তাদের সেই পুঁজির সরবরাহকারী কারা জানেন? আমি আপনি আমরা সকলেই। কিভাবে? শুধু আমাদের প্রতিদিনকার হিসাবের খাতা থেকে এক টাকা তাদের জন্য বরাদ্দ রেখে। আর সেই যাদুকরী এক টাকায় ভাগ্য বদলাবে আপনার আমার পাশের বাড়ির মানুষটির যে হয়তো সামান্য অর্থের অভাবে আজ নিজে কিছু করতে পারছে না। One Taka Fund  সেই সব পরিশ্রমী আর অসচ্ছল মানুষদের খুঁজে বেড়ায় যাদের একটু আর্থিক আর মানসিক সমর্থন প্রয়োজন নতুন করে স্বপ্ন দেখানোর জন্য। 

যেমন করে One Taka Fund এগিয়ে গিয়েছে সবজি বিক্রেতা আল-আমিনের পাশে। দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত বালক আল-আমিন সবজির দোকানের সহকারী থেকে আজ নিজেই সবজি বিক্রেতা। কিংবা ভাগ্য বদলেছে রিক্সা চালক মনির মিয়ার যাকে একটি রিক্সা কিনে দেয়া হয়েছিল । One Taka Fund এগিয়ে গিয়েছে আছিয়া বেগমের মত এক আত্মপ্রত্যয়ী নারীর পাশে যিনি জীবন সংগ্রামে টিকে থাকতে যৎসামান্য আয়ের আশায় কাপড় ফেরি করে বেরাতেন। সেই ব্যবসায়ের পরিধি বাড়িয়ে নিজের এবং পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে আছিয়া বেগমের মত আরও অনেক অসহায় অসচ্ছল মানুষের পাশে নিজেদের সামর্থ্য আর আন্তরিকতা নিয়ে এগিয়ে গিয়েছে One Taka Fund। সদস্যদের দেয়া এক টাকার ফান্ড থেকে আরেকজন অসহায় নারীকে কিনে দেয়া হয়েছে একটি সেলাই মেশিন, আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী করার হাতিয়ার। এই হাতিয়ারের সুই আর সুতার প্রতিটি ফোঁড়ে ফোঁড়ে হয়তো একটি করে সুখের গল্প রচিত হবে। জীবন মানের উন্নয়ন ঘটবে। 

One Taka Fund এর একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাঁদের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যক্তি নির্বাচন আর বিশ্লেষণী ক্ষমতা। কোন ব্যক্তিটিকে কোন ধরনের কর্মক্ষেত্র তৈরি করে দিলে তারা সেটি সফলভাবে চালিয়ে যেতে পারবে তা নিয়ে গবেষনাপূর্বক সেই ব্যক্তিকে সেই ধারার কর্মক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করার মত অসাধারন কাজটি কতইনা নৈপুণ্যের সাথে করে যাচ্ছে One Taka Fund । 
তথাকথিত ক্ষুদ্র ঋণ যেখানে ঋণের সুদ মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা এই সকল অসচ্ছল মানুষদের জন্য সেখানে One Taka Fund এগিয়ে গিয়েছে তেমনি এক ঋণগ্রস্ত ব্যাক্তিকে ঋণের সুদের হাত থেকে রক্ষা করতে। তার সুদ সমেত ঋণ ফেরত দেবার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তার জন্য নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করে দেবার প্রয়াসে কাজ করে যাছে। One Taka Fund এত সহজ শর্তে ঋণদানের নামে কাজের ক্ষেত্র তৈরি করে দেবার প্রচেষ্টা সবাইকেই আশ্চর্যান্বিত করেছে। আর সেই সব আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ গুলো একটু একটু করে এখন নিজেদের ঋণটুকু পরিশোধ করছেন যেনো এরকম আরো অসহায় সংগ্রামী মানুষদের কাছে নিজের স্বপ্ন নিয়ে পোঁছে যেতে পারে One Taka Fund.
গত ৩০শে অক্টোবর,২০১৭ যাত্রা শুরু করা One Taka Fund সংগঠনটি একে একে নিজেদের সাফল্যের মুকুটে যুক্ত করেছে ২২ টি অসহায় পরিবারকে স্বাবলম্বী করে সামনে এগিয়ে নেবার সাহসী গল্প। ৫৮৮ জন অথেনটিক সদস্য রোজকার এক  টাকা দিয়ে তৈরি করেছেন এই Story of Happiness আপনিও এগিয়ে আসুন আপনার আন্তরিকতা আর সহযোগিতার হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে কিংবা আপনার মুল্যবান মতামত দিয়ে সমৃদ্ধ করুন onetakafund.blogspot.com কিংবা ফেসবুক পেজ facebook.com/OneTakafund । 

সমাজের সুবিধাবঞ্চিত কিংবা অসহায় মানুষগুলোকে মূলধারার কাজে সম্পৃক্ত করার জন্য One Taka Fund তাঁদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তাঁরা স্বপ্ন দেখে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলো একদিন এগিয়ে আসবে, নিজেদের সম্মিলিত সম্ভাবনা সমগ্রিকভাবে কাজে লাগিয়ে এই সমাজটাকে বদলে দি্বে আর আমাদের দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমরাও বিশ্বাস করি যে মহান স্বপ্ন নিয়ে  One Taka Fund  প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অদূর ভবিষ্যতে এই স্বপ্ন নিশ্চয় সত্যি হবে আর তাঁদের চেতনা সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে যাবে।  কামিনী রায় লিখেছিলেন-

আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী 'পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে মোরা পরের তরে

আসুন সবাই মিলে সুখের গল্প লিখি...


ঊম্মে হাবিবা জুঁই
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস শেষে উক্ত মেডিকেলে ইন্টার্ন ডক্টর হিসেবে কর্মরত ।