নাসির ভাই নরসিংদী জেলার বাসিন্দা। নিজের জমি আছে, গরুও পালেন। অভাব হয়তো নেই কিন্তু ক্যাশ টাকাও খুব বেশি থাকেনা। একবার জরুরী প্রয়োজনে উনার স্ত্রীর গহনা বন্ধক রেখে প্রায় ৪০ হাজার টাকা ধার তুলেছিলেন। কিন্তু যে কাজে টাকাটা ধার করেছিলেন সেটাও হয়নি, বলতে গেলে উনার টাকাটা লস ই হয়েছিলো। এদিকে সময় মতো বন্ধকের টাকা পরিশোধ না করায় বাড়তি টাকা যেমন গুনতে হচ্ছিলো তেমনি স্ত্রীর সাথেও মনোমালিন্য হয়েছে বেশ কয়েকবার।
উনার গরুটার বাছুর হয়েছে কিছুদিন আগে। কিন্তু এখনো বাছুরটি তার মায়ের দুধ ছাড়েনি। নিরুপায় হয়ে নাসির ভাই ভাবলেন গরুটাই বিক্রি করে স্ত্রীর গহনা ছুটিয়ে আনবেন, কারন আশে পাশের পরিচিত মানুষজনের কাছে কিছুদিনের জন্য আরও কিছু ধার চাচ্ছিলেন যেটা উনি গরু বিক্রি করে দিয়ে দিবেন বাছুরটি একটু বড় হলেই। কিন্তু উনার মন সায় দিচ্ছিলো না গাভীটাকে বাছুর থেকে আলাদা করতে। আসলে পালিত পশু পাখির প্রতি মানুষের অন্যরকম মায়া জন্মাবে এটাই স্বাভাবিক। কারো কাছে সাড়া না পেয়ে One Taka Fund এর এক সদস্যের সাথে উনার গল্পটা বলছিলেন।
আমরা One Taka Fund থেকে নাসির ভাইকে ৩০ হাজার টাকা ধার দিয়েছিলাম স্ত্রীর গহনার বন্ধকের টাকা পরিশোধ করতে (সত্যি কথা বলতে বাছুরটিকে যেন তার মায়ের দুধ না ছাড়তে হয়)।
এখানে আমাদের ধারের টাকায় নাসির ভাইয়ের দুইটা উপকার হয়েছে , স্ত্রীর গহনা ফেরত আনতে পেরেছেন পাশাপাশি বাছুরটির প্রতি উনার ভালোবাসা জয়ী হয়েছে।
প্রিয় পাঠক, নাসির ভাই কিন্তু গরু বিক্রির সাথে সাথেই আমাদের ফান্ডের ৩০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে দিয়েছেন এবং আমাদের সম্মানিত ডোনারদের প্রতি উনার কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
নাসির ভাইয়ের বাছুরটির প্রতি মমতাই আমাদের Story of Happiness.














